মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যুগে যুগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। আর সে আন্দোলন-সংগ্রামগুলো করতে যেয়ে অসংখ্য মানুষকে অকাতরে জীবন দিতে হয়েছে। কিন্তু ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে এমন বিরল নজির পৃথিবীর ইতিহাসে নেই। মায়ের ভাষার সম্মান রক্ষার জন্য এতখানি আত্মত্যাগ একমাত্র বাঙালি জাতি ছাড়া পৃথিবীর আর কোন জাতিকেই করতে হয় নি। যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলার দামাল ছেলেরা রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করেছিল সে গণতন্ত্র আজও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে নি। বাংলার রাজনৈতিক আকাশ এখনও শঠতার মেঘে আচ্ছন্ন। সাংস্কৃতিক জমিন আজও দালাল আগাছায় পরিপূর্ণ। আকাশ সংস্কৃতি, মেকি আধুনিকতা, কর্পোরেট কালচার ইত্যাদির বদৌলতে অপসংস্কৃতি চর্চা ডালপালা ছড়িয়ে পুষ্টতা লাভ করেছে। ফলে সমাজের সর্বত্রই আজ অপসংস্কৃতির জয়জয়কার। যে একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের বহুপ্রতিক্ষিত স্বাধীনতা লাভ করেছি। সেই স্বাধীনতা লাভের চার দশক পেরিয়ে গেলেও স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলাভাষা আজও তার যথাযোগ্য মর্যাদা পায় নি। ভাষা শহীদ, ভাষা সৈনিক তথা তাঁদের পরিবারগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত মূলক এমন কিছু আমরা করতে পারি নি, যা পরবর্তী প্রজন্ম তথা দেশ ও জাতির সামনে উদাহরণ হয়ে থাকবে। তাই ফুলের তোড়া নিয়ে একুশের গান গেয়ে বছরে কেবলমাত্র একটি দিনের জন্য শহীদ মিনারে গেলেই একুশ তার মর্যাদা ফিরে পাবে না। একুশের তাৎপর্যকে জাতীয় জীবনে প্রতিফলিত করতে হলে দেশপ্রেমের নিখাদ দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে হবে। রাষ্ট্রের সর্বত্র বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি চালু করতে হবে। সেই সাথে ব্যবহারিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেও শুদ্ধ বাংলাভাষা চর্চা করতে হবে।
একুশে চেতনা পরিষদ, পার্বতীপুর, দিনাজপুর ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠালাভ করে এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসসহ পার্বতীপুরস্ত ভাষা সৈনিকদের সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদ্যাপনসহ আমাদের জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য জাতির সামনে উপস্থাপন করে আসছে। বর্তমানে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমাদের প্রচেষ্টাকে সফল করার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ধন্যবাদ।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন